শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ মেডিকেল অফিসারসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ও নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদ পূরণ থাকলে ও জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, এনাসতেসিয়া তিনটি পদই শুণ্য। দুই জন মেডিকেল অফিসারের জায়গায় আছে ১ জন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটর অপারেটর ৩ জনের স্থলে আছে ১ জন। ফার্মাসিস্ট ৫ জনের স্থলে ২জন, এমটি ল্যাব ২ জনের স্থলে ১ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৪ জনের স্থলে ১২ জন, মিডওয়াইফ ৭ জনের স্থলে ৬ জন।
উপ সহকারি মেডিকেল অফিসার ১১ জনের স্থলে ৯ জন আছে। পরিসংখ্যানবিদ, স্টোর কিপার এর মতো ২টি গুরুত্বপূর্ণ পদই শুণ্য। এ দুইটি পদ শূণ্য থাকার কারনে নিয়মতি কাজকর্ম চালানো সমস্য হচ্ছে। স্বাস্থ পরিদর্শকের ২ টি পদই শুণ্য। সহকারি পরিদর্শক ৬ জনের স্থলে ২ জন,স্বাস্থ্য সহকারি ২৬ জনের স্থলে ১৮ জন,জুনিয়র মেকানিক ১ টি পদ তা শুণ্য, এমএলএসএস ৮ জনের স্থলে ৩ জন, ওয়ার্ড বয় ৩ জনের স্থলে ১ জন, আয়া ২ টি পদই শুণ্য, মালি ১ টি পদ তা শুন্য, কুকমশালচি ২ জনের স্থলে ১ জন, নৈশ প্রহরী ২ টি পদই শুণ্য তাকায় রাতে পাহারা সম্যায় ভুগতে হয়। সুইপার ৫ জনের স্থলে ২ জন আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনবল কম থাকায় কোন কোন ব্যক্তি ৩ টি পদের দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে কোভিড সংক্রান্ত কাজ করতে হচ্ছে ২ জনকে। প্রতিদিন স্যাম্পল সংগ্রহ, তা ফরিদপুরে প্রেরণ ও রিপোর্ট সংগ্রহ করতে জেলায় নিয়মিত যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি বিকল থাকায় হাসপাতালে আসা সংশ্লিষ্ট রোগীকে হাসপাতালের বাইরে কোন ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে গিয়ে ঘন্টর পর ঘন্ট অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগীকে মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কবির সরদার জানান, ওষুধ পর্যাপ্ত আছে। অক্সিজেনের চাহিদা যা আছে সে পরিমান যোগান আছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ৫০ শয্যা চালু হলে রোগীদের শয্যা সমস্যাসহ অন্যান্য সংকট কেটে যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সালাম জানান, দেশের এই পেক্ষাপটে হাসাপাতালে যথেষ্ট সেবা দেওয়ার পরিবেশ রাখা হয়েছে। সর্বদা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। ৫০ শয্যা বেডের কার্যক্রম চালু হলে আরও রোগীদের সেবার মান উন্নত হবে। তবে রোগী ও অন্যান্য সেবার মান বাড়াতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর জনবল পূরণ হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মধুখালী বাসী।